একটু অভিমান থেকেই আজ কথাগুলো বলছি। কারণ বিদেশের বড় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান একই কথা বললে আমরা গুরুত্ব দিই, অথচ বাংলাদেশের ভেতর থেকে মাসের পর মাস গবেষণা করে আগাম সতর্ক করা হলে সেটি প্রায় অদৃশ্যই থেকে যায়।
মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI একসময় মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠতে পারে-এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
খবরটি দেখে আমার খুব ভালো লেগেছে।
কারণ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আজ এমন একটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সামনে আনছে, যে বিষয়গুলো নিয়ে Future Mind AI কয়েক মাস আগেই বিস্তারিত, ভবিষ্যৎমুখী এবং গবেষণাভিত্তিক আলোচনা প্রকাশ করেছে।
কিন্তু আনন্দের পাশাপাশি আমার ভেতরে একটি প্রশ্ন, কিছুটা অভিমান এবং কিছুটা ক্ষোভও তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘ আজ যে ঝুঁকির কথা বলছে, Future Mind AI সেটি কয়েক মাস আগেই বলেছিল
২০২৬ সালের মে মাসে Future Mind AI প্রকাশ করেছিল একটি বিস্তৃত ভবিষ্যৎমুখী গবেষণামূলক ফিচার
“AI: The Future of Possibilities or an Uncontrolled Risk?”
সেখানে আলোচনা শুধু বাংলাদেশের AI ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ে ছিল না।
আলোচনা ছিল Global AI Ethical Use, ভবিষ্যতে মানবজাতির সামনে অপেক্ষা করা সম্ভাব্য বিপদ, নিয়ন্ত্রণহীন AI-এর সামাজিক ও মানবিক প্রভাব এবং এখনই বিশ্বকে কী কী প্রস্তুতি নিতে হবে-সেসব নিয়ে।
আমরা প্রশ্ন তুলেছিলাম-

AI যদি মানুষের সিদ্ধান্ত, তথ্য, বিশ্বাস, অর্থনীতি, রাজনীতি, যুদ্ধ, নিরাপত্তা এবং সামাজিক কাঠামোর ওপর ক্রমাগত প্রভাব বাড়াতে থাকে, তাহলে এই প্রযুক্তির নৈতিক নিয়ন্ত্রণ করবে কে?
AI-এর সক্ষমতা যদি মানুষের আইন, সচেতনতা ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার চেয়ে দ্রুত এগিয়ে যায়, তখন কী হবে?
এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
মানবজাতির ক্ষতি হওয়ার পর আমরা ব্যবস্থা নেব, নাকি ক্ষতি হওয়ার আগেই প্রস্তুতি নেব?
আজ জাতিসংঘের বক্তব্য শুনে তাই ভালো লাগছে।
একই সঙ্গে মনে হচ্ছে-এই কথাগুলো যখন বাংলাদেশ থেকে কয়েক মাস আগে বলা হয়েছিল, তখন আমরা সেগুলো শুনিনি কেন?

আমার অভিমানটা আসলে এখানেই
Future Mind AI আজ নয়, ২০২৫ সাল থেকেই AI Ethical Use, AI Awareness, misinformation, deepfake, AI misuse, শিশুদের নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান, AI governance, মানবিক মূল্যবোধ এবং ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে ধারাবাহিকভাবে মানুষ ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে।
কিছু বিষয়ে আমরা তিন মাস আগে বলেছি।
কিছু বিষয়ে ছয় মাস আগে।
কিছু বিষয়ে প্রায় এক বছর আগে থেকেই বলে যাচ্ছি।
কিন্তু বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বড় একটি অংশ যেন এখনো চোখে রঙিন চশমা পরে ভাইরাল ও বহুল আলোচিত বিষয় খুঁজতেই বেশি ব্যস্ত।
আমি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে ছোট করতে চাই না।
কিন্তু প্রশ্নটি তুলতেই হবে
আমাদের গণমাধ্যমে কি নিজস্ব গবেষণাভিত্তিক নতুন চিন্তা খুঁজে বের করার সংস্কৃতি ক্রমেই কমে যাচ্ছে?
অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, বিদেশের বড় কোনো সংবাদমাধ্যম, আন্তর্জাতিক সংস্থা কিংবা বিশ্বখ্যাত ব্যক্তি একটি বিষয়ে কথা বলার পর আমরা সেটিকে সংবাদ হিসেবে গুরুত্ব দিই।
কিন্তু বাংলাদেশের একজন গবেষক, চিন্তক কিংবা স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম একই বিষয় কয়েক মাস আগে সামনে আনলেও সেটিকে গুরুত্ব দেওয়ার মতো বিশেষায়িত editorial vision খুব কমই দেখা যায়।
ফলে আমরা অনেক সময় news discover করি না–news copy করি।
এটাই আমার কষ্টের জায়গা।

আমার Facebook-এ ৫,৫০০-এর বেশি সংযোগ-তার মধ্যে হাজারেরও বেশি সাংবাদিক ও মিডিয়াকর্মী
আমি নিয়মিত Future Mind AI-এর গবেষণা, পর্যবেক্ষণ, সতর্কবার্তা, প্রস্তাব এবং সমাধানভিত্তিক কনটেন্ট প্রকাশ করি।
আমার ব্যক্তিগত Facebook-এ প্রায় ৫,৫০০ বন্ধু ও সংযোগের মধ্যে এক হাজারেরও বেশি সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী রয়েছেন।
তারপরও এত গবেষণামূলক resource নিয়মিত দেওয়ার পরও এগুলোর অধিকাংশই আমাদের মূলধারার গণমাধ্যমের নজরে পড়ে না।
কিন্তু যখন একই ধরনের কথা Bill Gates বলেন, জাতিসংঘ বলে, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বলে, তখন সেটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ হয়ে ওঠে।
আমার প্রশ্ন খুব সাধারণ
একটি বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার জন্য কি সেটি অবশ্যই বিদেশ থেকে আসতে হবে?
বাংলাদেশের মাটি থেকে তৈরি একটি গবেষণা বা ভবিষ্যৎমুখী চিন্তাকে আমরা কেন তার নিজস্ব merit দিয়ে বিচার করতে পারি না?

আরেকটি বড় পার্থক্য আছে-Future Mind AI শুধু সমস্যা বলে থেমে থাকে না
আজ AI নিয়ে বিশ্বের অনেক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সমস্যার কথা বলছে।
AI বিপজ্জনক হতে পারে।
Deepfake ভয়ংকর।
Misinformation বাড়ছে।
মানুষ চাকরি হারাতে পারে।
AI মানুষের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
এসব সমস্যা চিহ্নিত করা অবশ্যই জরুরি।
কিন্তু Future Mind AI-এর গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হলো
আমরা শুধু সমস্যার কথা বলছি না; সমস্যার সম্ভাব্য সমাধানের পথও খুঁজছি।
কীভাবে AI misinformation কমানো যায়।
কীভাবে মানুষের মধ্যে AI literacy তৈরি করা যায়।
কীভাবে শিশুদের নিরাপদ AI শিক্ষা দেওয়া যায়।
কীভাবে সরকার কার্যকর AI governance তৈরি করতে পারে।
কীভাবে AI ব্যবহারকারীদের মধ্যে ethical responsibility তৈরি করা যায়।
কীভাবে প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের অধিকার, কর্মসংস্থান এবং মানবিক মূল্যবোধ রক্ষা করা যায়।
কীভাবে AI-এর কারণে নতুন সংকট তৈরির পরিবর্তে নতুন কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও রাজস্বের পথ তৈরি করা যায়।
অর্থাৎ Future Mind AI-এর প্রশ্ন শুধু
“সমস্যা কী?”
নয়।
আমাদের আরও বড় প্রশ্ন
“সমাধান কী?”

বাংলাদেশের গণমাধ্যমের কাছে আমার বিনীত কিন্তু জোরালো অনুরোধ
শুধু আন্তর্জাতিক সংবাদ অনুবাদ করবেন না।
বাংলাদেশের ভেতরে কী নতুন চিন্তা তৈরি হচ্ছে, সেটিও খুঁজে দেখুন।
কে ছয় মাস আগে কী সতর্ক করেছিল, সেটিও দেখুন।
কে ভবিষ্যতের সমস্যা শুধু চিহ্নিত করছে না, সমাধানের model তৈরির চেষ্টা করছে-সেটিও দেখুন।
কারণ বাংলাদেশের AI ভবিষ্যৎ শুধু Silicon Valley, Europe কিংবা জাতিসংঘের বক্তব্য অনুসরণ করে তৈরি হবে না।
বাংলাদেশকেও নিজস্ব জ্ঞান তৈরি করতে হবে।
নিজস্ব গবেষণা তৈরি করতে হবে।
নিজস্ব AI Ethical Use framework তৈরি করতে হবে।
নিজস্ব ভবিষ্যৎদর্শী চিন্তাকে মূল্য দিতে হবে।

দেশের মানুষ, সরকার ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি আমার একটি আহ্বান
একবার Future Mind AI-এর website-এ গিয়ে সময় নিয়ে ঘুরে আসুন।
শুধু headline দেখে নয়।
প্রতিবেদনগুলো পড়ুন।
Researchগুলো পড়ুন।
ভবিষ্যৎ নিয়ে করা বিশ্লেষণগুলো দেখুন।
AI misuse নিয়ে আমাদের সতর্কবার্তাগুলো দেখুন।
শিশু, কর্মসংস্থান, misinformation, governance, ethics এবং মানবতার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের প্রস্তাবগুলো পড়ুন।
তারপর সমালোচনা করুন।
ভুল থাকলে ধরিয়ে দিন।
আর যদি কোনো ধারণা সত্যিই বাংলাদেশের কাজে আসে, সেটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যান।
আমি বিশ্বাস করি, সাইটটি মনোযোগ দিয়ে ঘুরে দেখলে একজন পাঠক এমন একটি সমৃদ্ধ আন্তর্জাতিক AI knowledge space-এর অভিজ্ঞতা পাবেন, যেখানে শুধু প্রযুক্তি শেখানোর চেষ্টা করা হয়নি
প্রযুক্তি ও মানবতার মধ্যে একটি দায়িত্বশীল সেতুবন্ধন কীভাবে তৈরি করা যায়, তার দিকনির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য।
একই সঙ্গে বিশ্বের জন্য।

সময় থাকতে আমাদের জাগতে হবে
AI-এর ভালো দিক নিয়ে কথা বলার মানুষের অভাব নেই।
AI দিয়ে কী করা যায়-সেটিও আমরা প্রতিদিন দেখছি।
কিন্তু প্রশ্ন হলো
AI দিয়ে কী করা উচিত নয়?
AI-এর সীমা কোথায় হওয়া উচিত?
মানুষের নিয়ন্ত্রণ কোথায় নিশ্চিত করতে হবে?
কীভাবে AI যেন মানুষের সহায়ক থাকে, মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী বা ধ্বংসের কারণ না হয়ে ওঠে?
এই প্রশ্নগুলোই Future Mind AI দীর্ঘদিন ধরে সামনে আনার চেষ্টা করছে।
আজ জাতিসংঘ যখন একই ধরনের বিপদের বিষয়ে বিশ্বকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে, তখন আবারও বলতে চাই

Future Mind AI-এর কথাগুলোকে শুধু একটি Facebook post হিসেবে দেখবেন না।
এগুলো ভবিষ্যৎ নিয়ে গবেষণা, পর্যবেক্ষণ এবং আগাম সতর্কতার অংশ।
কয়েক মাস পর বিদেশের কোনো বড় ব্যক্তি একই কথা বললে সেটিকে সংবাদ করার আগে
বাংলাদেশের ভেতর থেকেও কে সেই কথা আরও আগে বলেছিল, একবার সেটিও খুঁজে দেখুন।
কারণ
ভবিষ্যৎকে অনুসরণ করার চেয়ে ভবিষ্যৎকে আগে বুঝতে পারাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
Future Mind AI – Since 2025
Pioneer of AI Ethical Use & AI Awareness in Bangladesh
Md. Mashiur Rahman
AI Artist & Analyst
(AI Ethical Use & AI Awareness)
Founder, Future Mind AI
Author of AI Dark & Light
